পোস্ট অফিসেও লক্ষীর ভান্ডার: মাসে ১০–১২ হাজার টাকা পেতে করুন এইভাবে

ZWE Times Favicon
On: November 15, 2025 7:08 PM
Follow Us:
পোস্ট অফিসে লক্ষীর ভান্ডার

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের জনপ্রিয়তা অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেটা দেখে ভারতীয় ডাক বিভাগও একটি অনুরূপ সেভিং স্কিম চালু করেছে — পোস্ট অফিসের লক্ষী ভান্ডার নামে একটি রেকারিং ডিপোজিট (Recurring Deposit) প্রস্তাব করা হচ্ছে। এই আর্থিক পরিকল্পনায় নিয়মিত ছোট ছোট জমা করে ভবিষ্যতে ভালো পরিমাণ রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। নিচে সহজ ও পরিষ্কারভাবে সব বিষয় আলোচনা করা হলো।

পোস্ট অফিস লক্ষী ভান্ডার কি?

পোস্ট অফিস লক্ষী ভান্ডার একটি রেকারিং ডিপোজিট ধরনের স্কিম। এখানে প্রতি দিন নির্দিষ্ট পরিমাণ (উদাহরণ হিসেবে দৈনিক ₹৩৩৩) জমা করলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সুদসহ একটি বড় পরিমাণ হাতে পাবেন। ডাক বিভাগ বলেছে এই স্কিম বার্ষিক প্রাচল্য সুদ অনুযায়ী রিটার্ন দেবে; উদাহরণ হিসেবে ৫.৮% বার্ষিক সুদ ধরে সহজ অঙ্কে ওয়াক-থ্রু নিচে দেওয়া আছে।

কীভাবে জমা করবেন — উদাহরণ ও হিসাব (সহকারী হিসাব)

উদাহরণ হিসেবে ধরা হল দৈনিক ₹৩৩৩ জমা করলে কেমন হয়:

  • দৈনিক জমা: ₹৩৩৩
  • এক মাসে (প্রায় ৩০ দিন ধরে) জমা ≈ ₹৩৩৩ × ৩০ = ₹৯,৯৯০
  • এক বছরে (৩৬৫ দিন ধরে) জমা = ₹৩৩৩ × ৩৬৫ = ₹১,২১,৫৪৫
  • দশ বছরে মোট জমা (প্রায়) = ₹১,২১,৫৪৫ × ১০ = ₹১২,১৫,৪৫০

উপরের মোট জমা অর্থ (প্রিন্সিপাল) প্রায় ₹১২.১৫ লক্ষ হয়। যদি অনুমান হিসেবে বার্ষিক সুদ ৫.৮% ধরে এবং সুদ-মিলিয়ে (compound/annually) মোট রিটার্ন ধরা হয়, তাহলে আনুমানিক মোট রিটার্ন প্রায় ₹১৬ লক্ষের কাছাকাছি হতে পারে। এই সংখ্যা আনুমানিক—চূড়ান্ত হিসাব স্কিমের প্রকৃত সুদপদ, সুদগ্রহণ পদ্ধতি (কোম্পাউন্ডিং ফ্রিকোয়েন্সি), এবং মেয়াদ অনুসারে ভিন্ন হবে।

বিঃদ্রঃ এখানে প্রদত্ত সুদ-পরিমাণ ও মোট রিটার্ন উদাহরণস্বরূপ এবং আনুমানিক; চূড়ান্ত অংক জানতে অবশ্যই নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যাচাই করুন।

মাসিক আয়ের দিকটি কীভাবে আসে?

১০ বছরের মেয়াদে বা উপযুক্ত মেয়াদে মেচিউরিটি (maturity) হলে আপনার মোট রিটার্নকে আপনি আয় হিসেবে ভাগ করে মাসিক সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। উপরের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী ১০ বছরের পরে মোট প্রায় ₹১৬ লক্ষ পাওয়া গেলে সেটির মাসিক সমতুল্য প্রায় ₹১৩,৩৩৩। এজন্যই বলা হয় মাসিক আয়ের সমতুল্য ১০–১২ হাজার টাকার ধরণ সম্ভব।

কোন মেয়াদে জমানো যাবে?

পোস্ট অফিস RD/লক্ষী ভান্ডার স্কিম সাধারণত বিভিন্ন মেয়াদে করা যায় — সাধারণত ৫ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত। আপনি আপনার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং লক্ষ্য অনুযায়ী মেয়াদ নির্বাচন করবেন। মেয়াদ ও সুদের হার মিলে চূড়ান্ত রিটার্ন নির্ধারিত হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন (স্টেপ-বাই-স্টেপ)

  1. নিকটস্থ প্রধান বা সাব পোস্ট অফিসে যান এবং “লক্ষী ভান্ডার” বা রেকারিং ডিপোজিট (Recurring Deposit) স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসা করুন।
  2. স্কিমের শর্ত, সুদের হার, মেয়াদ ও কয়টি জমাদানের অপশন আছে তা পোস্ট অফিসে জেনে নিন।
  3. আবেদনের ফরম নিন এবং সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  4. প্রথম জমা (প্রতিদিন/মাসিক ভরতি পদ্ধতি নির্ভর করে) দিয়ে রিসিপ্ট নিন।
  5. নিয়মিত জমা চালিয়ে যান; অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে অর্থ জমা নিলে বা নিলে কিভাবে ব্যবস্থা হবে, তা আগে জানুন।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

  • পরিচয়পত্র: আধার কার্ড, ভোটার আইডি বা প্যান কার্ড
  • ঠিকানার প্রমাণ: রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড বা ইউটিলিটি বিল
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস (যদি প্রযোজ্য)

কাদের জন্য উপযোগী?

যারা নিয়মিত সেভিং করতে চান কিন্তু বড় এককালীন জমা দিতে পারবেন না, তাদের জন্য দৈনিক/মাসিক ছোট ছোট জমা রেখে রিটায়ারমেন্ট বা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবেই এই স্কিম ভালো বিকল্প। বিশেষ করে সেই মহিলারা যারা লক্ষী ভান্ডার জাতীয় সরকারি চালু প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এবং ডাক বিভাগের নির্দিষ্ট স্কিমে অংশ নিতে চান তাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

সতর্কতা ও গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • উপরের সমস্ত আর্থিক নম্বর আনুমানিক। প্রকৃত সুদ হার, চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতি ও মেচিউরিটি নির্ভর করে চূড়ান্ত ফলাফলে পরিবর্তন হবে।
  • যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে অফিসিয়াল ক্যালকুলেশন ও শর্তগুলো যাচাই করুন।
  • স্কিমের নিয়মাবলি, জরিমানা, লেট ফি ইত্যাদি অফিস থেকে জেনে নিন যাতে পরে অচেনা খরচ না পড়ে।

উপসংহার

পোস্ট অফিসের লক্ষী ভান্ডার রেকারিং ডিপোজিট একটি নিয়মিত সেভিং পদ্ধতি। দৈনিক ছোট জমা করলে দীর্ঘ মেয়াদে সম্মানজনক পরিমাণ রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে দৈনিক ₹৩৩৩ জমা করে ১০ বছরের প্ল্যান করলে মোট প্রিন্সিপাল প্রায় ₹12.15 লক্ষ হতে পারে এবং আনুমানিক সুদসহ মোট রিটার্ন প্রায় ₹১৬ লক্ষের কাছাকাছি হতে পারে — কিন্তু চূড়ান্ত হিসাবের জন্য পোস্ট অফিসে যাচাই জরুরি। সেভিং শুরু করার আগে শর্ত এবং সুদের হার ভালোভাবে দেখে নিন।

Leave a Comment