রাজ্য সরকার দিচ্ছে ১২,০০০ টাকা বৃত্তি! নবম পাশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সহানুভূতি স্কলারশিপ – আবেদন ও শর্ত

ZWE Times Favicon
On: November 14, 2025 8:20 PM
Follow Us:
নবম পাশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সহানুভূতি স্কলারশিপ

বহু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী আর্থিক সমস্যার কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নাও যেতে পারেন। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার চালু করেছে সহানুভূতি স্কলারশিপ। এই স্কিমের লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য ও প্রতিবন্ধকতার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেধাবী নবম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের অর্থে সহায়তা করা। নিচে সহজ ভাষায় সবকিছু দেওয়া আছে — কারা আবেদন করতে পারবে, কী কী শর্ত, কোন নথি লাগবে এবং কিভাবে আবেদন করবেন।

সহানুভূতি স্কলারশিপ কী?

এই স্কলারশিপটি রাজ্য সরকারের একটি বৃত্তিমূলক প্রকল্প। যেখানে প্রধানত প্রতিবন্ধী ও আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য টাকা দেওয়া হয়, যাতে তারা নবম শ্রেণীর পরে উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে পারে। বরাদ্দকৃত অর্থ স্কলারশিপ আকারে দেওয়া হয় এবং শিক্ষাব্যয় কমাতে সহায়তা করে।

কে আবেদন করতে পারবেন? (যোগ্যতা)

  • **প্রতিবন্ধতার ধরন:** আবেদনকারীকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, অস্থি-সম্পর্কিত বা মানসিক প্রতিবন্ধী হতে হবে।
  • **প্রতিবন্ধতার পরিমাণ:** ন্যূনতম ৪০% প্রতিবন্ধকতা থাকা চাই।
  • **শিক্ষাগত যোগ্যতা:** নবম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ থাকতে হবে এবং পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির জন্য যোগ্য হতে হবে।
  • **শিক্ষাগত ফলাফল:** আগের বছরের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকতে হবে।
  • **পারিবারিক আয়:** আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ₹২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) বা তার কম।
  • **ভর্তির শর্ত:** আবেদন করার সময় পরবর্তী ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা বা যাচাইযোগ্য প্রবেশপত্র থাকতে হবে।

স্কলারশিপের টাকা ও সুবিধা

স্কলারশিপের পরিমাণ এবং প্রদানের নীতিমালা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত যা নিয়ম — প্রথম ধাপে অনাস্থিত বা প্রাথমিক অর্থ দেওয়া হতে পারে এবং পরে যাচাইয়ের পর মোট বরাদ্দকৃত স্কলারশিপ সম্পূর্ণ পরিমাণ প্রদেয় করা হয়। (উদাহরণস্বরূপ পোস্ট-টেক্সটে ১২,০০০ টাকার বৃত্তির রেফারেন্স আছে — অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করুন)।

আবেদন পদ্ধতি (Step-by-step)

এই স্কলারশিপে আবেদন সাধারণত অফলাইন মাধ্যমে করা হয়। ধাপগুলো হলো:

  1. আপনি প্রথমে সম্পর্কিত জেলা/শিক্ষা বিভাগ/জেলা জনশিক্ষা প্রচার অফিস থেকে স্কলারশিপ ফর্ম সংগ্রহ করুন বা ওই অফিসের নির্দেশিত ফরম ডাউনলোড করুন।
  2. ফর্মে আপনার নাম, ঠিকানা, অভিভাবকের তথ্য ও শিক্ষাগত বিবরণ সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  3. প্রয়োজনীয় নথি (নীচে তালিকাভুক্ত) ফর্মের সাথে সংযুক্ত করুন।
  4. ফর্ম জমা দিন নির্ধারিত জেলা জনশিক্ষা প্রচার অফিসে বা স্কিমে নির্দিষ্ট অফিসে।
  5. নথি যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষ স্কলারশিপ অনুমোদন ও প্রদান প্রক্রিয়া চালাবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

  • আবেদনকারী ও অভিভাবকের পরিচয়পত্র: আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা প্যান কার্ড
  • সাম্প্রতিক পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদপত্র
  • পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রমাণপত্র (ইনকাম সনদ)
  • ছাত্র/ছাত্রীর পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি
  • যদি প্রযোজ্য: কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি সংরক্ষণ সুবিধা নেওয়া হয়)
  • প্রতিবন্ধীর সার্টিফিকেট (শারীরিক প্রতিবন্ধিতা প্রমাণপত্র)

জরুরি নির্দেশনা ও পরামর্শ

  • আবেদন করার আগে অফিসিয়াল নোটিফিকেশন বা জেলা শিক্ষা বিভাগ থেকে সব শর্ত ভাল করে পড়ুন।
  • নথি সত্য ও স্বচ্ছ রাখুন—ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
  • আবেদন জমা দেওয়ার পরে রসিদ বা গ্রহণ নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন।
  • যদি অনলাইনে সাবমিশন করার নির্দেশ থাকে, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই ফরম পূরণ করুন।

উপসংহার

সহানুভূতি স্কলারশিপ এমন একটি সুযোগ যা নবম শ্রেণী উত্তীর্ণ আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে সহায়তা করে। যোগ্য হলে দরকারি নথি নিয়ে দ্রুত আবেদন করুন। সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন যাচাই করে স্কলারশিপ প্রদান করবে।

Leave a Comment